
在手机上保存,获得更好体验
উনিশশো এগারোর সেই জুলাইয়ের দুপুর,
খালি পায়ে এগারো বীর লিখেছিল ইতিহাস ভরপুর।
ধুতি গুটিয়ে মাঠে নেমে, বুকে ছিল আগুন,
সামনে ছিল সাম্রাজ্যবাদ, পেছনে সারা বঙ্গভূমি।
ঢাকা থেকে মেদিনীপুর, বর্ধমানের গান,
এক পতাকার তলায় জেগে উঠেছিল হিন্দুস্তান।
সিবদাসের ডাকে তখন কেঁপে উঠেছিল দেশ,
দুই গোলের সেই বজ্রধ্বনি আজও অমলিন রেশ।
মোহনবাগান, মোহনবাগান,
শুধু ক্লাব নয়, স্বাধীনতার গান।
সবুজ মেরুন রক্তে মেশা প্রাণ,
শতাব্দী পেরিয়েও তুই অমর মোহনবাগান।
খুদিরামের ফাঁসির দড়ি, বাংলাভাগের ক্ষত,
বিপ্লবীদের চোখে তখন স্বাধীনতার শপথ।
বোমার শব্দ, গোপন লড়াই, রক্তাক্ত রাত,
ফুটবলের মাঠেও সেদিন চলছিল প্রতিবাদ।
"এগারো"র সেই গল্প জুড়ে জেগে ওঠে প্রাণ,
বন্দুক হাতে বিপ্লবী আর বল পায়ে বাগান।
যে জয় শুধু ট্রফি নয়, জাতির আত্মসম্মান,
সেই জয়ের আলো আজও বাঁচিয়ে রাখে বাগান।
মোহনবাগান, মোহনবাগান,
শুধু ক্লাব নয়, স্বাধীনতার গান।
সবুজ মেরুন রক্তে মেশা প্রাণ,
শতাব্দী পেরিয়েও তুই অমর মোহনবাগান।
গোষ্ঠ পালের লৌহপ্রাচীর, চুনীর জাদুকরী পা,
পি.কে.-র সেই স্বপ্নভরা ভারতজোড়া ছোঁয়া।
নয়েমউদ্দিন, তালিমেরেন, কিংবদন্তির সারি,
কালো হরিণ বিজয়নের দৌড়ে কেঁপেছে গ্যালারি।
সঞ্জয় সেনের হাতে আবার লিগের মুকুট আসে,
বাগ্গু হাসে গ্যালারিতে, বিজয়েরই আশে।
শতবর্ষের ডাকটিকিটে লেখা গৌরবগাথা,
মোহনবাগান মানেই যেন বাংলার আত্মকথা।
ATK নামের ছায়া পেরিয়ে ফিরেছে নিজের ঘর,
সমর্থকদের অশ্রু মুছে জেগেছে নতুন ভোর।
ডুরান্ড, শিল্ড, ISL কাপ,
সবুজ-মেরুন লিখে চলে সোনালি অধ্যায় চাপ।
পেত্রাতোস, বুমুস, মনবীর, আশিকের উড়ান,
কৈঠ-কোটাল পাহারা দেয় অটল দুর্গপ্রাণ।
ডার্বির মাঠে গর্জন ওঠে, কাঁপে লাল-হলুদ,
ময়দানের এই রাজত্বে বাগান আজও অদম্য, অটুট।
মোহনবাগান, মোহনবাগান,
দেশপ্রেম আর ফুটবলের মিলিত আহ্বান।
খালি পায়ের সেই স্বপ্ন আজও অম্লান,
যতদিন ভারত বাঁচে, বাঁচবে মোহনবাগান।
গোষ্ঠ থেকে চুনি,
চুনি থেকে পি.কে.,
পি.কে. থেকে বিজয়ন,
বিজয়ন থেকে আজকের প্রজন্ম—
একটাই নাম,
একটাই আবেগ,
একটাই ধর্ম—
জয় মোহনবাগান!
জয় সবুজ-মেরুন!